ঢাকা, ১৪ এপ্রিল ২০২১, বুধবার

মিয়ানমারে পুলিশের গুলিতে নিহত বেড়ে ১৮

Facebook
WhatsApp
Twitter
Google+
Pinterest
পুলিশ

দাউই শহরে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ জনের বেশি। দেশটির প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনেও গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে এক আন্দোলনকারীর বুকে গুলি লাগে।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান বিরোধীদের জন্য আজ এক রক্তাক্ত দিন। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুড়েছে দেশটির পুলিশ। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন।

২৮ ফেব্রুয়ারি রোববার জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে এতথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদরাও একই তথ্য দিয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থা বলছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বলপ্রয়োগ করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি।

দেশটির রাজনীতিবিদ কিয়া মিন হিটেক জানিয়েছেন, দাউই শহরের বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে পুলিশ। এতে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর আরো দুইজনকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমও জানিয়েছে, দাউই শহরে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন ১২ জনের বেশি। দেশটির প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনেও গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে এক আন্দোলনকারীর বুকে গুলি লাগে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।

ইয়াঙ্গুনের মূল শহরে স্টান গ্রেনেড দিয়ে শিক্ষকদের একটি বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এসময় এক নারী মারা গেছেন। যদিও তার মৃত্যুর কারণ নির্দিষ্ট করে এখনও জানা যায়নি। ওই নারীর মেয়ে এবং এক সহকর্মী এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া পরে অন্যদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে ব্যর্থ হওয়ার পর পুলিশ ইয়াঙ্গুনের বিভিন্ন এলাকায় গুলি চালাতে শুরু করে। এসময় ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। সেনা অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি।

প্রায় শুরু থেকেই জনসাধারণের বিক্ষোভ চলছে। শনিবার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয় বিক্ষোভের বিরুদ্ধে। এক নারী গুলিবিদ্ধ হন এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রোববারও বিক্ষোভ প্রতিহত করতে অসহিংস পদক্ষেপ শুরু করে তারা।

রয়টার্স বলছে, তবে দেশজুড়ে বিক্ষোভে গুলি চালানো ও হতাহতদের ব্যাপারে পুলিশ বা ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিলের মুখপাত্রের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চেয়ে ফোন করা হলে কোনো সাড়া দেয়নি।মিয়ানমারে গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি।

তবে এনএলডি নিরঙ্কশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। তারা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *