ধূমকেতুবিডি

জর্জ হেরিটেজ সিটি পিনাং মালয়েশিয়া (পর্ব-০৪)

( পূর্ব প্রকাশের পর )

যেকোন দেশ এক সাথে ঘোরা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কোন সুযোগ ছিল না। ২য় দিন হেরিটেজ সাইট এবং তৃতীয় দিন ক্যাম্পসাইট এবং ৪ র্থ দিন পার্ক সাইট । প্রতিদিন বিভিন্ন এ্যাডভেঞ্চার থাকে। প্রত্যেকটা কাজ যেমন আনন্দদায়ক তেমন দুঃসাহসিক। তবে সারাদিনের ক্লান্তি এবং ভাল লাগা মন্দ লাগার পর প্রতিদিনই ইন্টারন্যাশনাল নাইট উদযাপন হত যেখানে বিভিন্ন দেশের নাচ গানের মধ্যে দিয়ে রিক্রিয়েশনের ব্যবস্থা করা হত এখানে।

গ্যাঙ সো, কনসার্ট, ক্যাম্প ফায়ার, খুব মজা হত, এভাবে খুব আনন্দের মাঝে ক্যাম্পিং শেষ হলো। আমাদের পূর্বেই বলা হয়েছিল মালয়েশিয়ায় আমাদের হোম হসপিটালিটি দেবে দুই দিন। 

শেষ দিন আমাদেরকে পিনাং এর একটি স্বনামধন্য স্কুল আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গেলেন এবং একটি ফাইভ স্টার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করলেন। আমার মেয়েরা মুক্ত হয়ে হোটেলে অনেক মজা করল। এর মাঝে আমি ঐ স্কুলের দুই ম্যাডামের সাথে কুয়ালালামপুর আসার বাস টিকিট এবং মেয়েদের রাতের খাবার সংগ্রহ করলাম। ঐ দুই ম্যাডাম দুইজনই তাদের প্রাতিষ্ঠানিক গাড়ি নিজেরাই ড্রাইভ করেন। উনারা অনেক পরিশ্রমী।

সন্ধ্যায় আমাকে হোটেলে নামিয়ে দিয়ে ঊনারা চলে গেলেন। পরদিন সকালে ঊনারা আমাদেরকে ঊনাদের স্কুল ভিজিটের জন্য নিয়ে গেলেন। সেখানে আমার ছাত্রীরা ওদের শিক্ষার্থীদের সাথে স্টুডেন্ট এক্সচেন্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে আমি এবং আমার ছাত্রীরা বিশেষ করে আইসিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় অংশগ্রহণ করি।

স্কুলের শিক্ষক, ছাত্র, ছাত্রী, এবং কর্তৃপক্ষ খুব খুশি হন। এবং আমাদের সকলের আলাদা আলাদা সনদ প্রদান করেন। ক্যাম্প শেষ হলে ঐ ছয় জন আপা আমাদের সাথে ছিলেন না। আলাদা ছিলেন। তাছাড়া আমি এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান স্বাক্ষরিত দুই দেশের পতাকা সম্বলিত সনদ দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রদান করা হয়। তারপর ওরা ওদের সুসজ্জিত ক্যান্টিনে আমাদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

ওরা ভোজন রসিক এত বৈচিত্রময় খাবার সব নাম ও বলতে পারবো না। এবং খাওয়া শেষে ৪ জন ম্যাডাম নিজ নিজ ড্রাইভ করে আমাদেরকে বাসস্টান্ডে নিয়ে এসে বাসে তুলে দেন। আমরা রওনা হই কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে। আবার সেই ৮ ঘন্টার বাস ভ্রমণ । অবশেষে পৌছালাম কুয়ালালামপুর।

ভালভাবে পৌছালাম। কিন্তু আমার ছাত্রী সামিহার ল্যাগেজ বাস থেকে নামানো হয়নি। বাস ল্যাগেজ নিয়ে অনেক দূরের নির্ধারিত টার্মিনালে পৌছে গেছে। অনেক দুঃচিন্তায় পড়লাম এখন কী করি। সাহস করে বাংলাদেশি আমার ভাই আর একজন এই দুজনকে নিয়ে মেয়েদের একজায়গায় বসিয়ে রেখে গেলাম টার্মিনালে। উদ্ধার করলাম ল্যাগেজ পরে আমরা একটি সুন্দর হোটেলে উঠলাম। হোটেলটির নাম কুল হোটেল। মেয়েদের সারাদিনের ভ্রমণের পর ক্লান্ত শরীরে হোটেলে উঠে ও ওদের প্রায় নির্ঘুম রাত্রি পার হলো। আমরা ওখানে একটা বাংলাদেশি হোটেলে খেতাম বাংলাদেশি খাবার বাংলাদেশি রান্না মেয়েদের কষ্ট হত না।   (চলবে)

লেখক : পারভীনা খাতুন, শিক্ষিকা, যশোর শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
error: Content is protected !!