ঢাকা, ২৭ জুলাই ২০২১, মঙ্গলবার

পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী 

Facebook
WhatsApp
Twitter
Google+
Pinterest
প্রধানমন্ত্রী

অনাস্থা জ্ঞাপনের পরে স্টেফান লফভেন এক সপ্তাহ সময় পান তাঁর সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিকল্প জোট গঠন করার জন্য। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। 

গত সপ্তাহে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লফভেন এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা জ্ঞাপনের আট দিন পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে লফভেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সুইডিশ পার্লামেন্টের উপনির্বাচন হওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।

গত ২১ জুন লফভেন-সরকারের সঙ্গে জোটবদ্ধ বামদল বিরোধীদলীয় উগ্র-ডানপন্থীদের সঙ্গে এক হয়ে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লফভেন এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা জ্ঞাপন করে।

অনাস্থা জ্ঞাপনের পরে স্টেফান লফভেন এক সপ্তাহ সময় পান তাঁর সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিকল্প জোট গঠন করার জন্য। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এ অবস্থায় পার্লামেন্টের স্পিকার সংবিধান অনুযায়ী অন্য কোনো দল বা জোটকে সরকার গঠন করতে অনুরোধ করবেন। এভাবে যদি পর পর চারবার সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে কেউ সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হবেন। উল্লেখ্য যে, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে উপনির্বাচন এবং সরকার গঠন হলেও, সে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

স্টেফান লফভেন তাঁর পদত্যাগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, নিয়মানুযায়ী সুইডিশ পার্লামেন্টের জাতীয় নির্বাচন হবে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এরই মধ্যে আবার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করে সরকার গঠন করাও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

সুতরাং নতুন সরকার এলেও তাঁর সময়কাল বেশি দিনের জন্য হবে না। এছাড়াও চলমান করোনা মহামারির কারণে উপনির্বাচন বিঘ্নিত হলে দেশ সাংবিধানিক সংকটের মধ্যে পড়বে, যা দেশকে আরো ভয়াবহতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সে ক্ষেত্রে নতুন কোনো সরকার আসাই যুক্তিসঙ্গত যারা পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবেন এবং দেশকে সাংবিধানিক সংকট থেকে রক্ষা করবেন।

গত ২১ জুন ২০২১ সুইডিশ পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে স্টেফান লফভেনের সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানানো হয়। পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে স্টেফান লফভেনের বিপক্ষে ভোট দেয় ১৮১ জন, পক্ষে ভোট দেয় ১০৯ জন, ভোট থেকে বিরত থাকে ৫১ জন এবং অনুপস্থিত ছিলেন আটজন। গণতান্ত্রিক সুইডেনের ইতিহাসে কোনো সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে অনাস্থা জানানোর ঘটনা এটাই প্রথম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *