ধূমকেতুবিডি

শান্তির ধর্ম ইসলাম

পারিবারিক অশান্তির আরেক নাম যৌতুক

ধূমকেতু ডেস্ক : নারীর সঙ্গে পুরুষদের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিয়ে হচ্ছে একমাত্র বৈধ, বিধিবদ্ধ, সার্বজনীন এবং পবিত্র মাধ্যম।

এ সম্পর্কে আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা পবিত্র কুরআনের সূরা রুমের ২১ নাম্বার আয়াতে বলেছেন – “এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আর এক নিদর্শন (হচ্ছে): তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা ওদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহানুভূতি সৃষ্টি করেছেন; নিশ্চয় চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে নিদর্শন আছে।”

কিন্তু যৌতুক প্রথার মতো এক বিষাক্ত ব্যাধি আমাদের সুশৃঙ্খল পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের যেখানে প্রশান্তি পাওয়ার কথা সেখানে অশান্তির কালো ছায়ায় ছেয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ, নারী নির্যাতন, হত্যা এবং যৌতুকের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার মতো মহা পাপের মধ্যেও আমরা জড়িয়ে পরছি।

এতে আমাদের দুনিয়া বরবাদের সাথে আখিরাতেও নিজের অবস্থান জাহান্নামে নিয়ে যাচ্ছি। অথচ একটা মেয়ে বিয়ের আগে সম্পূর্ণ আলাদা একটি পরিবেশে বেড়ে উঠে। বিয়ের পরবর্তীতে সে তার হাশি-খুশি, রাগ-অভিমানসহ সকল চাহিদা উপেক্ষা করে অচেনা একটা জায়গায়, অজানা কিছু মানুষের সঙ্গে নিজের সবচেয়ে প্রিয় আপনজনদেরকে ছেড়ে এসে, জীবন পরিচালনার সংগ্রমে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত হয়। আর সারাজীবনই সেই সংগ্রামের উপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখে!

যৌতুকের লেনদেন এত জঘন্য অপরাধ যে, তা শুধু হারাম বা কবীরা গুনাহ নয়, এমন অনেকগুলো হারাম ও কবীরা গুনাহর সমষ্টি, যার কোনো একটিই যৌতুকের জঘন্যতা ও অবৈধতার জন্য যথেষ্ট ছিল। যেমন-
১. মুশরিক-সমাজের রেওয়াজ : যৌতুকের সবচেয়ে নগণ্য দিক হলো, তা একটি হিন্দুয়ানি রসম বা পৌত্তলিক সমাজের প্রথা। আর কোনো মুসলিম কোনো অবস্থাতেই কাফের ও মুশরিকদের রীতি-নীতি অনুসরণ করতে পারে না।
২. জুলুম ও নির্যাতন : যৌতুক শুধু জুলুম নয়, অনেক বড় জুলুম। আর তা শুধু ব্যক্তির উপর নয়, গোটা পরিবার ও বংশের উপর জুলুম। যৌতুকের কারণে কনে ও তার অভিভাবকদের যে মানসিক পীড়ন ও যন্ত্রণার শিকার হতে হয় তা তো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অথচ কাউকে সামান্যতম কষ্ট দেওয়াও হারাম ও কবীরা গুনাহ।
৩. অন্যের সম্পদ হরণ : কুরআন মজীদে একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা অন্যায়ভাবে একে অন্যের সম্পদ গ্রাস করো না। [সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৮ # সূরা নিসা, আয়াত : ২৯]
বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, “নিঃসন্দেহে তোমাদের জান, মাল, ইজ্জত-আব্র“ তোমাদের পরস্পরের জন্য এমনভাবে সংরক্ষিত, যেমন হজ্বের দিবসটি হজ্বের মাস ও (হজ্বের শহর) মক্কায় সংরক্ষিত। সুতরাং কারো জান-মাল, ইজ্জত-আব্র“তে হস্তক্ষেপ করা হজ্বের সম্মানিত মাসে, হজ্বের সম্মানিত দিবসে হারাম শরীফের উপর হামলার মতো অপরাধ। [সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৭৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৬৭৯]
৪. ডাকাতি ও লুটতরাজ : কে না জানে, অন্যের সম্পদ লুট করা কবীরা গুনাহ! বড় কোনো সম্পদ নয়, যদি জোর করে কেউ কারো একটি ছড়িও নিয়ে যায় সেটাও লুণ্ঠন, যা সম্পূর্ণ হারাম। লুণ্ঠিত বস্তু অনতিবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া ফরয। হাদীস শরীফে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের জিনিস উঠিয়ে না নেয়; না ইচ্ছা করে, না ঠাট্টাচ্ছলে। একটি ছড়িও যদি কেউ তুলে নেয় তা যেন অবশ্যই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৫০০৩ # জামে তিরমিযী, হাদীস : ২১৬০]
যৌতুক নেয়া কারো সামান্য জিনিস তুলে নেওয়ার মতো বিষয় নয়। বরং তা সরাসরি লুণ্ঠন ও ডাকাতি। পার্থক্য শুধু এই যে, এখানে ছুরি-চাকুর বদলে বাক্যবান ও চাপের অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়, যা মজলুমের মন-মানসে অনেক বড় ও গভীর ত সৃষ্টি করে। তো ডাকাতি ও লুটতরাজের যে গুনাহ যৌতুক নেওয়ার গুনাহও তার চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
error: Content is protected !!