ঢাকা, ২৮ জুলাই ২০২১, বুধবার

দেশ এখন আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে বিভক্ত : ফখরুল

Facebook
WhatsApp
Twitter
Google+
Pinterest
বিএনপি নেতা

নতুন প্রজন্ম যারা জিয়াউর রহমানকে চেনেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে জানে না। এখন তাদের কাছে যেটা শেখানো হচ্ছে, জানানো হচ্ছে, সেটি সম্পূর্ণ একটি বিকৃত ইতিহাস। যখন মানুষ আশা করছে স্বাধীনতার ঘোষণা হবে, যাদের দায়িত্ব ছিল এই স্বাধীনতার ঘোষণা করা তারা কেউ ঘোষণা করেননি। তাদের কেউ আত্মসমর্পণ করেছিলেন, আবার কেউ পালিয়ে গিয়েছিলেন।

ঢাকা : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ এখন আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।

১৯ জুন শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল আয়োজিত একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলে।

তিনি বলেন, দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার ফলে যখন একজন ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছেন, কিন্তু তার কথা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না বিএনপি বা আওয়ামী লীগে থাকার কারণে। এই বিষয়গুলো থেকে আমাদের বোধহয় বেরিয়ে আসা দরকার।

মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন প্রজন্ম যারা জিয়াউর রহমানকে চেনেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে জানে না। এখন তাদের কাছে যেটা শেখানো হচ্ছে, জানানো হচ্ছে, সেটি সম্পূর্ণ একটি বিকৃত ইতিহাস।

যখন মানুষ আশা করছে স্বাধীনতার ঘোষণা হবে, যাদের দায়িত্ব ছিল এই স্বাধীনতার ঘোষণা করা তারা কেউ ঘোষণা করেননি। তাদের কেউ আত্মসমর্পণ করেছিলেন, আবার কেউ পালিয়ে গিয়েছিলেন।

সে সময় জিয়াউর রহমান সেই ঘোষণা (স্বাধীনতার ঘোষণা) দিয়ে গোটা জাতিকে স্বাধীনতার যুদ্ধে নেমে পড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিলেন। এটা কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

তখন উনি কোন পলিটিকাল লিডার ছিলেন না, তার উপর কোনো দায়িত্বও ছিল না। ওই সময় উনার মধ্যে জাগ্রত হল দিস ইজ দ্য টাইম, উই মাস্ট রিভল্ট পাকিস্তানি আর্মি। এখানে কিন্তু নেতৃত্বের ব্যাপারটা এসে যায়।

বিএনপির এই মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বেশ কিছুদিন ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একটি ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। সেটি হচ্ছে— জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ছিলেন না।

অনেকে বলেন মুক্তিযুদ্ধ করেননি, অনেকে বলে পাকিস্তানের অনুচর ছিলেন। বিভিন্ন ভাবে তাকে খলনায়কে পরিণত করতে চায়। অনেক বইয়ের মাধ্যমে শিশুদের শিখানো হয় জিয়াউর রহমান একজন কিলার।

বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে নাকি জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন। আমরা যারা শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করি, আজকে ওটাকে কাউন্টার করতে হবে। এটাতো সঠিক নয় উপরন্তু তারা মিথ্যা বলছে। তারা কেন বলছে, কি কারণে বলছে, এটিও আমাদের বুঝতে হবে।

যার যেটা পাওনা, সেটা তাকে বুঝিয়ে দেয়া হোক এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি কখনোই কাউকে ছোট করতে চাই না। যার যেটা পাওনা, সেটা তাকে অবশ্যই বুঝিয়ে দিতে হবে। মহান স্বাধীনতার মূল কাজ যিনি করলেন, তাকে বাদ দিয়ে দেয়া হচ্ছে, একজন মানুষ ছাড়া তাদের কোনো মানুষই নেই। এটাই হচ্ছে ইতিহাস।

জন্মশতবার্ষিকীর সঙ্গে সুবর্ণজয়ন্তী আছে, আপনারা কি সুবর্ণজয়ন্তী পালনের কোন অনুষ্ঠান দেখতে, শুনতে পান? প্রথম একদিন করেছে তারপর আর আমরা কিছু দেখতে পাইনি। কিন্তু জন্মজয়ন্তী কিন্তু চলছে।

এখনো সারা বাংলাদেশ জুড়ে পোস্টার ছড়িয়ে রাখা আছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই— একটামাত্র মানুষ, একটা মাত্রই নেতা। আগে ছিল এক নেতার এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। এখন কিন্তু ওটা পরিবর্তন হয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এসে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *