ভ্যাকসিন

চীনা সিনোভ্যাকের টিকার প্রয়োগ শুরু ইন্দোনেশিয়ায় 

Share on facebook
Share on twitter
Share on google
Share on whatsapp
Share on email
Share on facebook

ইন্দোনেশিয়ার ড্রাগ অ্যান্ড ফুড এজেন্সি জানায়, দেশটিতে সিনোভ্যাকের টিকার মানবদেহে ট্রায়ালে ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ কার্যকরিতা পাওয়া গেছে। ব্রাজিলেও এ টিকার ট্রায়াল হয়। মঙ্গলবার দেশটি জানায়, কার্যকারিতা সর্বোপরি ৫০ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

ইন্দোনেশিয়ায় চীনা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি সিনোভ্যাক বায়োটেকের তৈরি ভ্যাকসিন গণহারে প্রয়োগের উদ্বোধন করেছেন প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।

১৩ জানুয়ারি বুধবার জাকার্তার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের বারান্দায় এ উপলক্ষে একটি অস্থায়ী ভ্যাকসিন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। সেখানে নিজের ট্রেডমার্ক সাদা টি-শার্ট পরে তিনি টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেন।

জোকো উইদোদো ইন্দোনেশিয়ায় জোকোই নামে বেশি পরিচিত। এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণরোধে ব্যর্থ হয়েছে দ্বীপপুঞ্জ ইন্দোনেশিয়া। তাই দেশটির অর্থনীতির চাকা সচল করতে গণহারে টিকা প্রয়োগ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে জাকার্তা।

টিকা গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট উইদোদো বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার মাধ্যমে আমাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় নেতারা, সামরিক বাহিনী প্রধান এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী টিকা গ্রহণ করেন।

সোমবার ইন্দোনেশিয়ার ড্রাগ অ্যান্ড ফুড এজেন্সি জানায়, দেশটিতে সিনোভ্যাকের টিকার মানবদেহে ট্রায়ালে ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ কার্যকরিতা পাওয়া গেছে। ব্রাজিলেও এ টিকার ট্রায়াল হয়। মঙ্গলবার দেশটি জানায়, কার্যকারিতা সর্বোপরি ৫০ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ অনুযায়ী করোনার টিকা প্রয়োগের জন্য ট্রায়ালে এর কার্যকারিতা কমপক্ষে ৫০ শতাংশ থাকতে হবে। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ায় ১০ হাজার ৪৭ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। মোট আক্রান্ত ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫। এদিন মারা গেছে ৩০২ জন।

করোনায় দেশটিতে মোট মারা গেছে ২৪ হাজার ৬৪৫। সোমবার বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীতে দুই সপ্তাহের জন্য কড়াকড়ি করা হয়েছে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিধান। সামাজিক বিধিনিষেধ ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে দুই দশকের মধ্যে দেশটিকে প্রথম আর্থিক মন্দায় ফেলেছে।

বার্ষিক অর্থনীতির চিত্রও ছিল মন্দাময়। করোনা সংক্রমণরোধ করা না গেলে চলতি বছরেও একই পরিণতি দেখতে হতে পারে। তাই অন্যদের মতো ইন্দোনেশিয়াও ভ্যাকসিন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

এ পর্যন্ত ব্যবহারের উপযোগী সিনোভ্যাকের ৩০ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে ইন্দোনেশিয়া। মঙ্গলবার ১২ লাখ ডোজ টিকা সারাদেশে বিতরণ করা হয়েছে। এদিনই দেড় কোটি ডোজ টিকা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

সিনোভ্যাক, নোভাভ্যাক্স এবং বিশ্ব টিকা কর্মসূচি কোভ্যাক্সের কাছ থেকে ২২ কোটি ৯ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জাকার্তা। অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ফাইজারের কাছ থেকে ৫ কোটি ডোজ টিকা ক্রয়ের জন্য আলোচনা করছে দেশটি।

ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৪ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তারপর ১ কোটি ৭৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এর আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *