খাবার

করোনকালে কেমন হবে শিশুর খাবার

করোনা বয়স মানছে না। তার ভয়াল থাবায় সংক্রমিত করে যাচ্ছে সব বয়সী মানুষকে। শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছে না এই অতিমারি থেকে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত হচ্ছে বাচ্চারাও, বাড়ছে প্রকোপ। গত বছরের তুলনায় এই বছর অনেক বেশি সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে করোনায়।

তবে আশার কথা হলো উপসর্গহীন বা হালকা উপসর্গ থাকা বাচ্চাদের বাড়িতেই চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। কোন শিশু করোনায় সংক্রমিত হলে বা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাদের খাবারের তালিকায় বিশেষ নজর রাখতে হবে।

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলতে হবে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং এই রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা তৈরি জন্য ওষুধের পাশাপাশি উপযুক্ত খাবার খেতে হবে। পুষ্টিকর খাবারে শিশুরা সহজেই করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে পারবে।

পাশপাশি ভাইরাস তাদের শরীরের যে ক্ষতি করেছে, তাও পূরণ করে উঠতে পারবে বাচ্চারা। তাহলে জেনে নিন প্রিয় সন্তান করোনায় আক্রান্ত হলে তার প্রতিদিনের খাবার তালিকায় কী কী রাখবেন। এবং করোনা থেকে সেরে ওঠার পরেও তার শারীরিক দুর্বলতা না যাওয়া পর্যন্ত একই খাবার বেশ কিছুদিন মেন্যুতে রাখতে হবে।

করোনাকালে সুরক্ষার জন্য খাদ্য তালিকায় প্রোটিন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। এই সময়টাতে শিশুদের বেশি পারিমানে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। বিভিন্ন রকমের ডাল, পরোটা, চিকেন কাটলেট এবং বিশেষ করে স্প্রাউট সালাদ। শিশুরা অসুস্থ হলে তাদের মুখের রুচি বদলাতে অনেকেই ভুল করে তেল-মসলা যুক্ত অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস দিয়ে থাকেন।

যা তাদের উপকার তো করেই না উল্টো ক্ষতি করে। স্প্রাউট সালাদ খুব হেলদি, টেস্টি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি খাবার। অল্প সময়ের মধ্যে এটি তৈরি করা যায়। স্প্রাউট সালাদ খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। সেই সাথে প্রোটিন সহ নানারকম ভিটামিনের যোগান দেয় এই স্প্রাউট সালাদ। শুধু বাচ্চাদের জন্যই নয়, প্রাপ্ত বয়স্করাও বিকেলের স্ন্যাকসে বা সকালে ওয়ার্ক আউটের পরে অবশ্যই খেতে পারেন এই সালাদ।

করোনা সংক্রমিত অবস্থায় কিংবা করোনা থেকে সেরে উঠার পর পর বাচ্চাদের দিনে অন্তত ৫ থেকে ৬ বার ফল ও সবজি খাওয়াতে পারেন। এতে তাদের খাওয়ার ইচ্ছেটা ফিরে আসবে, শরীরেও বল পাবে। এখন ফলের মৌসুম। এই গরমে আম, তরমুজ, লিচু জাতীয় ফল বেশি খাওয়ান। এছাড়া বিভিখন্ন রকমের সবজি রাখুন মেন্যুতে।

করোনা সংক্রমিত শিশু যদি ক্লান্তি বোধ করে তাহলে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ান। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায় এমন খাবারের মধ্যে আছে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ (স্যামন, হ্যালিবাট, টুনা, সারডিন্যাস, ম্যাকেরেল, হেরিং), ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ডিম ও বিভিন্ন রকমের শাক সবজি। যেমন পালং শাক, ব্রকোলি।

ইলিশ, রূপচাঁদা ও পাঙ্গাশ মাছে খুব অল্প পরিমাণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। করোনা থেকে সেরে উঠার পর শিশুদের নিয়মিত হালকা ব্যায়ামে অভ্যস্ত করুন। জাংক ফুড চাইলেও খেতে দিবেন না। প্রয়োজনে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর বিভিন্ন খাবার বাড়িতেই তৈরি করুন।

সূত্র : ইত্তেফাক।

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Cart
Your cart is currently empty.