যত্ন

এই গরমে চুলের যত্ন

সম্প্রতি সময়ে তাপমাত্রা থাকছে একটু বেশিই উষ্ণ। রোদেরও ভীষণ তেজ। এই প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে শুধু মুখ কিংবা শরীরের ত্বকই নয়, ঘেমে চিটচিটে হয়ে যাচ্ছে চুলও। বেশ ক্ষতির সম্মুখীনও হচ্ছে। গরমকে এড়িয়ে চলার কোনো উপায় নেই, তবে এর নেতিবাচক দিকগুলো তো চাইলেই কম করা যায়।

এ সময়ে চুলের যে ক্ষতি হয়, তা কমিয়ে রাখা যায় কিছু বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করলেই। সবচেয়ে আগে যে বিষয়টি খেয়াল রাখবেন, চুল ঘামে ভিজে গিয়ে মাথার স্কাল্পে শিরশিরে অনুভূতি বা চুলকানি অনুভব হলেই অযথা মাথার চুল টানবেন না। এতে করে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় এবং চুল পড়ে যায়।

তার চেয়ে বরং ফ্যানের বাতাসে ঘাম শুকিয়ে ফেলুন। প্রতিদিন গোসলের পরও এ কাজটি করুন। তবে চুল ঝাড়বেন না। এতেও চুল পড়ে যায় এবং বেশ ক্ষতি হয়। এ সময় চুলের যত্নে রইল কিছু পরামর্শ :

চুলে তেলের ব্যবহার অতি জরুরি : এই গরমে তেল চুলে লাগানো অনেকেরই পছন্দ নয়। তবে চুলের জন্য তেল খুবই দরকারি একটি উপকরণ। সেটি নারকেল তেল হোক বা বাদামের তেল। বিশেষ করে নারকেল তেল প্রাচীনকাল থেকে চুলের যত্নে ব্যবহূত হয়ে আসছে। এটি মাথা ঠান্ডা রাখে, চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুলে পুষ্টি জোগায়।

এ ছাড়া রয়েছে এদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে সহজলভ্য সরিষার তেল। অনেকেই এ ব্যাপারে অজ্ঞাত ও ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে থাকেন। কিন্তু চুলের যত্নে এটি যথেষ্ট উপকারী। নারকেল দুধ একটি অতি উপযোগী উপাদান। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই, যা আপনার চুলের ড্যামেজ ও আগা ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

চুলকে ড্যামেজ থেকে রক্ষায় ভিটামিন-ই-এর প্রয়োজনীয়তা তো আমাদের সবারই জানা। অনেকে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল তেলে গুলেও ব্যবহার করেন। এমনকি বিভিন্ন শ্যাম্পুতেও রয়েছে এই উপাদানের উপস্থিতি।

যথাসম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন : বাজারে চুলের যত্নের জন্য যেসব দ্রব্য পাওয়া যায়, যেমন বিভিন্ন শ্যাম্পু, হেয়ার সিরাম ইত্যাদি পাওয়া যায়। সেসবে অধিকাংশ সময়ই ক্ষতিকর পদার্থ ও কেমিক্যাল থাকে। তাই চেষ্টা করুন এগুলো কম ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উপাদানকে প্রাধান্য দিতে।

এ ক্ষেত্রে মেথি, টক দই, গুঁড়ো দুধ, মেহেদি, লেবু ইত্যাদি মিশিয়ে প্রলেপ চুলে লাগাতে পারেন। ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর রস। এগুলো চুল থেকে খুশকি দূর করবে, চুলকে মজবুত বানাবে, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের আক্রমণ থেকেও দেবে নিরাময়।

শ্যাম্পু আবিস্কারের আগে চুল পরিস্কারে রিঠা ভিজানো পানির কোনো তুলনাই ছিল না। চাইলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন আপনিও। পুরোনো সবকিছুই তো খাঁটি হয়।

হেয়ার সিরাম : যদিও প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর বেশি নির্ভর করাটাই নিরাপদ, তবু চাইলে বিভিন্ন হেয়ার মিস্ট, হেয়ার সিরাম ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতেই পারে। এটি আর্দ্রতার ভাব ও সতেজ রাখে চুলকে।

বিভিন্ন বিউটি পার্লার ও স্যালুনে রয়েছে নানা রকম হেয়ার ট্রিটমেন্টের সুব্যবস্থা। আপনার শখ, রুচি এবং সাধ্যের মধ্যে মিল হলে এগুলো করে দেখতে পারেন। সন্তোষজনক ফল পাবেন।

চুলের যত্নে পানিশূন্যতা থেকে বাঁচা আগে দরকার। এ জন্য গরমকালে বেশি বেশি পানি পান করুন। এতে করে আপনি আপনার দেহের সঙ্গে সঙ্গে চুলকেও রাখতে পারেন সুস্থ ও সতেজ। সুন্দর চুল আপনাকে খুব সহজেই দিতে পারে ফুরফুরে মন।

উকুন এবং খুশকি থেকে রক্ষা পেতে : স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা চুল উকুনের নিরাপদ আবাসস্থল। তাই ভেজা চুল বেশিক্ষণ ভেজা না রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুকিয়ে ফেলুন। তবে এ সময় খুব বেশি দরকার ছাড়া হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এতে করে চুল খুব শুস্ক হয়ে যায়।

চুলের খুশকি ও উকুন প্রতিরোধে মেথি ও লেবু উপকারী। এ ছাড়া বাজারে পাওয়া যায় অ্যান্টি ড্যানড্রফ এবং উকুননাশক শ্যাম্পু। নারকেল তেলে ন্যাপথলিন ডুবিয়ে রেখে চুলে সে তেল লাগালেও উকুন প্রতিরোধে অনেক কাজে দেয়। চুল পরিস্কার রাখাও উকুন প্রতিরোধে জরুরি। প্রয়োজনে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহারেও বিশেষ ক্ষতির কারণ নেই, তবে চুল কিছুটা শুস্ক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে কিনা নজর রাখুন।

রোদ থেকে চুল ও মাথার ত্বক রক্ষা করুন : রোদ থেকে মাথার স্কাল্প ও চুলের সুরক্ষা ত্বকের সুরক্ষার চেয়ে কোনো অংশে কম ভাববেন না। সমান গুরুত্ব দিন। যেসব দিনে রোদের তাপ অপেক্ষাকৃত বেশি থাকবে চেষ্টা করুন চুলকে রোদ থেকে বাঁচিয়ে চলার। স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করুন। ব্যাগে একটি ছাতা রাখুন।

এতে করে মাথায় তাপ লাগবে না। এখানে বলা জরুরি, গরমকালে চুল বেশি খুলে না রাখাই ভালো। বেঁধে রাখুন। তবে খুব বেশি শক্তভাবে বাঁধবেন না। একটি ছোট হেয়ার ক্লিপ বা ব্যান্ড ব্যবহার করুন।

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Cart
Your cart is currently empty.