ধূমকেতুবিডি

শিল্পসত্ত্বা প্রকৃতির ভাষা, আদি অস্তিত্ব বা সত্ত্বার ক্রিয়া

বেনজীন খান

‘শিল্পসত্ত্বা’ বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে আমাদের প্রথমেই বুঝে নিতে হবে ‘শিল্প’ কি এবং কে-বা শিল্পী?

শিল্প হলো– শিল্পীর ক্রিয়া। অথবা শিল্পীর কর্মই শিল্প। অর্থাৎ শিল্পের পেছনে রয়েছে– শিল্পী, সত্ত্বা বা অস্তিত্ব। জগত সংসারে এই সত্ত্বা বা অস্তিত্ব বিরাজমান দ্বৈতভাব-এ।

১. আদি সত্ত্বা।
২. ধারক সত্ত্বা।

আদি-অস্তিত্ব বা সত্ত্বা: যেমন– আকাশ, মহাকাশ, গাছ, নদী, ফুল, পাখি, জীবজন্তু, বাতাস, মাটি ও মানুষ তথা ‘প্রকৃতি’। অপরদিকে ধারক-অস্তিত্ব বা সত্ত্বা: হলো– এই আদি-অস্তিত্বেরই বাসিন্দা, অংশবিশেষ; ‘মানুষ’।

আদি-সত্ত্বা ইচ্ছা নিরপেক্ষ ভাবেই ক্রিয়া করে থাকে ধারক সত্ত্বার উপরে। এবং ধারক-সত্ত্বা তৎক্ষণাৎই তা ধারণ করে। এই ধারণকৃত যৌগ-ই হলো ‘শিল্প’। আর ধারক-সত্ত্বা ‘মানুষ’ তখনই বনে যায়—-শিল্পী, কর্তা বা সত্ত্বা।

অর্থাৎ মনুষ্য-জগতে শিল্পসত্ত্বার প্রধান ভিত্তিভূমি হলো– ধারক-সত্ত্বার পরিপার্শ্ব, আদি অস্তিত্ব তথা প্রকৃতি; এবং একই সাথে তার বৈষয়িক স্বার্থ।

যেমন, একটি ‘উড়োপ্লেন’ যদি শিল্প-কর্ম হয়ে থাকে, তাহলে তার আদি-সত্ত্বা হলো– মানুষের ইচ্ছানিরপেক্ষ, আকাশে উড়ে বেড়ানো একটি পাখি। আর দ্বিতীয় কারণ হলো– ধারক-সত্ত্বার ভেতরে উদয় হওয়া উড়বার আকাঙ্ক্ষা, কল্পনা বা স্বপ্ন।

মানবমনের এই আকাঙ্ক্ষা, কল্পনা বা স্বপ্ন বাস্তবায়নের তাগিদ-ই নানাভাবে ফলিত রূপ ধারণ করে ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, চিত্রকলা, সাহিত্য, সঙ্গীত, নৃত্যকলা, অভিনয় তথা সৃষ্টিশীল মাধ্যমে। এবং এই সৃষ্টিশীল সকল ক্ষেত্রে ক্রিয়াশীল সত্ত্বাকেই আমরা বলে থাকি– ‘শিল্পী’ (the artist) এবং তাদের কর্মকে বলে থাকি ‘শিল্প’ (art)।

কিন্তু গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে– আদি-অস্তিত্বের প্রতিটি উপাদান-ই হলো, একেকটি মহৎ শিল্পকর্ম! সঙ্গতকারণেই মানুষের বিস্মিত মনে আবারও প্রশ্ন জাগে– তবে কি প্রাকৃতিক এই শিল্পকর্মের পিছনেও কোনো মহান শিল্পীর হাত আছে!? আছে কি তারও পেছনেও…!?

এ-এক জটিল জিজ্ঞাসা এবং তার উত্তর খুঁজে ফিরাও মানুষের অনন্ত ‘আকাঙ্ক্ষা’! আর, এ-ই হলো– মানুষের শিল্পী সত্ত্বার দার্শনিক ক্ষেত্র।

অতঃপর এই দার্শনিক-সত্ত্বা প্রবর্তীত ‘নিশ্চয়-জ্ঞান’ অনুসরণ-ই হলো– ‘ধর্মতত্ত্ব’ এবং তা সত্যা-সত্য প্রমান কোরে তোলার শিল্পাঙ্গন হলো– ‘বিজ্ঞান’। ‘সাহিত্য’ তার নৈবদ্যময় বিমুর্ত বিবরণ; আর আলোছায়া ও রঙে তা মুর্ত কোরে তোলা-ই হলো– ‘চিত্রকলা’।

অতএব আদি শিল্পসত্ত্বা হলো– প্রকৃতি, প্রকৃতির ভাষা, আদি-অস্তিত্ব বা সত্ত্বার ক্রিয়া।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
error: Content is protected !!